তুরস্কের আকসা এনার্জি ইউরেতিম এ.এসের সঙ্গে সম্পদ ক্রয় চুক্তি (অ্যাসেট পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট) করেছে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (কেপিসিএল)। চুক্তির আওতায় খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত ১১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কেপিসি ইউনিট-২ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সম্পদ বিক্রি করবে কোম্পানিটি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত মে মাস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় কেপিসি ইউনিট-২ ও যশোরের নোয়াপাড়া ৪০ মেগাওয়াট প্লান্ট বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) নবায়ন না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেপিসিএল। বন্ধ থাকা কেপিসি ইউনিট-২ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সম্পদ তুরস্কের কোম্পানির কাছে বিক্রির জন্য চুক্তি করেছে কোম্পানিটি।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) খুলনা পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৩ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৬ পয়সা। আলোচ্য হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১০ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ৮৭ পয়সায়।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে খুলনা পাওয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৫ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১ টাকা ৬৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ৩৪ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কেপিসিএলের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৬৭ পয়সা। আগের হিসাব বছরে ইপিএস ছিল ৩ পয়সা। ৩০ জুন ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ১৯ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কেপিসিএলের ইপিএস হয়েছে ৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ৭৩ পয়সায়।
কেপিসিএলের সর্বশেষ ঋণমাণ দীর্ঘমেয়াদে ‘এ মাইনাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-থ্রি’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও রেটিং প্রকাশের দিন পর্যন্ত অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।
১৯৯৭ সালে দেশের প্রথম আইপিপি হিসেবে কেপিসিএলের যাত্রা শুরু। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০১০ সালে। বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৭০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৩৯৭ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩৩১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৩৯ কোটি ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ১৭৯। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকের কাছে ৬৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৮ দশমিক ৯২, বিদেশী দশমিক শূন্য ৬ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বাকি ২১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।